দেশের জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে উগ্রবাদী হামলার যে আশঙ্কার কথা উঠেছিল, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তবে কোনো প্রকার ঝুঁকি বা হুমকিকে হালকাভাবে না দেখে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এই এলিট ফোর্স।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার।
সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে র্যাবের অবস্থান পরিষ্কার করে খালিদুল হক হাওলাদার বলেন:
“এ ধরনের কোনো আশঙ্কা বা থ্রেট (হুমকি) এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। আমরা বিশ্বাস করি, অপরাধীরা এ ধরনের দুঃসাহস অন্তত করবে না। তবুও আমরা প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, র্যাব-২-এর আওতাভুক্ত এলাকার সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর, স্থাপনা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভবনের নিরাপত্তায় টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দলগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বাহিনীর সব ইউনিট প্রধানকে পাঠানো এক বার্তায় জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। ওই বার্তায় বলা হয়েছিল, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জনৈক ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও কৌশলগত কারণে সেই নিষিদ্ধ সংগঠনটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক আরও স্পষ্ট করেন যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গুজব বা আতঙ্ক নয়, বরং সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমেই যেকোনো উগ্রবাদী অপতৎপরতা রুখে দিতে র্যাব প্রস্তুত রয়েছে।
Leave a Reply